চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, কাজাখস্তানের আসতানায় উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভের সঙ্গে এক বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের আগ্রাসন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ইরান-ইসরাইলের মধ্যকার চলমান সংঘাতের আগুনে ‘ঘি ঢেলেছেন’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, এমন অভিযোগ এনেছে চীন। আজ মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। মূলত ইরানের নাগরিকদের তেহরান ছেড়ে যেতে বলার পরই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ এনেছে চীন। কয়েক দশকের শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্ক ও পরোক্ষ যুদ্ধের পর গত শুক্রবার ইরানের সামরিক ও পরমাণু স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইল।
ইসরাইলে একটি সামরিক গোয়েন্দা কেন্দ্র এবং মোসাদের একটি অপারেশন পরিকল্পনা কেন্দ্র লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। ইরানের ইসলামিক রেভুল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা তাসনিম। খবর আল জাজিরা’র। এর আগে ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে, কেন্দ্রীয় উপকূলীয় শহর হার্জলিয়ায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের কথা বলা হয়েছিল, যা একটি ‘সংবেদনশীল স্থানকে’ লক্ষ্য করে আঘাত হানে বলে জানানো হয়।
ইরানে ইসরাইলের আগ্রাসন আর গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদে একদিকে চলছে বিক্ষোভ। অন্যদিকে তথাকথিত বিশ্ব রক্ষার নামে বৈঠকে বসেছেন শিল্পোন্নত দেশগুলোর নেতারা। জি সেভেন বর্ধিত করে আগামীতে রাশিয়া এবং চীনকে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র আর জাপান বাণিজ্য চুক্তিতে আসতে ব্যর্থ হয়েছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধানে জি সেভেন সম্মেলনস্থল আগেই ত্যাগ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ও সামরিক বাহিনীর পর অবিলম্বে তেহরান খালি করার ট্রাম্পের নির্দেশের পরই সেখানে বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা গেছে, পালাচ্ছেন বাসিন্দারা। পঞ্চম দিনেও ইরান-ইসরাইলের মধ্যে চলছে হামলা-পাল্টা হামলা। তেল আবিবসহ ইসরাইলের বেশ কয়েকটি শহরে বেজে উঠে সাইরেন। নেতানিয়াহুর দাবি, খামেনিকে হত্যার মাধ্যমেই এই সংঘাত শেষ হবে।
গাজার খান ইউনিসের আল তাহলিয়া গোলচত্বরে খাবারের জন্য অপেক্ষায় থাকা ৫৪ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল বাহিনী। এতে আরও ডজন খানেক আহত হয়েছে। খবর আল জাজিরা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহত এবং নিহতদের চাপে আল-নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ, আইসিইউ এবং অপারেশন থিয়েটারে স্থন সংকুলার করা যাচ্ছে না।
ইরানে ছুটিতে থাকা সব ডাক্তার ও নার্সদের অবিলম্বে নিজেদের কর্মস্থলে ফিরে আসতে হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ-মন্ত্রী সাইয়েদ সাজ্জাদ রেজাভি। খবর আলজাজিরার।
ইসরাইলে থাকা চীনা নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং দূতাবাস। ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে তীব্র সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে চীনা দূতাবাস উইচ্যাটে এ আহ্বান জানায়।
ইরান-ইসরাইল সংঘর্ষের মধ্যে নিজেদের নাগরিকদের ইরান থেকে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতি দিয়ে আজ মঙ্গলবার জানিয়েছে, ‘তেহরান থেকে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার কারণে দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য ভারতীয় নাগরিক, যারা নিজেদের যানবাহনের ব্যবস্থা করতে পারবেন, তাদেরও উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে শহর থেকে সরে যেতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
কানাডায় চলমান ৫১তম জি-৭ সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না। ইসরাইলের 'আত্মরক্ষার অধিকার' রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। মঙ্গলবার ইকোনমিকস টাইমস এক প্রতিবেদনে একথা জানায়।
ইরান ও ইসরাইলের মাঝে টানা পঞ্চম দিনের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। আঞ্চলিক এই সংঘাতে বিশ্বের পরাশক্তি দেশগুলোও জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইরানের চালানো নতুন হামলার জেরে দখলদার ইসরাইলজুড়ে বাজছে সতর্কতামূলক সাইরেন। এ সময় ইসরাইলিরা আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটে যেতে থাকেন। ইরানের বিপ্লবী গার্ড এর আগে ইসরাইলে বড় হামলার হুমকি দিয়েছিল।
ইসরাইলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের এখনই সরিয়ে নেয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে দূতাবাস জানায়, মার্কিন দূতাবাস এই মুহূর্তে ইসরাইল থেকে মার্কিন নাগরিকদের সরিয়ে নিতে বা আমেরিকানদের সরাসরি সহায়তা করতে সক্ষম নয়।
ইরানের ওপর গত ১৩ জুনের প্রথম প্রহর থেকে নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল। রাজধানী তেহরানসহ দেশটির শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ওই রাতে হামলা চালায় ইসরাইল। ইরানে ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে মিশরসহ ২১টি মুসলিম দেশ। পাশাপাশি উত্তেজনা হ্রাস এবং পরমাণু প্রকল্প বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছে দেশগুলো। খবর আলজাজিরার।
তেহরানে ইসরাইলের আক্রমণ কেবল সামরিক ঘাঁটি এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেনি বরং সাধারণ নাগরিকদের জীবনেও মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। যুদ্ধের আঁচ গিয়ে লেগেছে তাদের শোবার ঘর, রান্নাঘর এবং বসার ঘরেও। অনেক শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। অনেক শিক্ষকের হৃদস্পন্দন স্তব্ধ হয়ে গেছে, ক্রীড়াবিদরা চাপা পড়েছেন ধ্বংসস্তূপের নিচে।
ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা করতে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ অথবা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে পাঠাতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটি জানিয়েছেন তিনি। সিবিএস নিউজের এক্সের এক পোস্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধের সত্যিকার ইতি চান ট্রাম্প। তবে এটা পারমাণবিক ইস্যু নিষ্পত্তি করার মাধ্যমে হতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।