ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইসরায়েলে একের পর এক মিসাইল দিয়ে পাল্টা হামলা করছে ইরান। এবার ইসরায়েলের বিয়ারশেবা শহরে বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর সেখানে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে বলে জানায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। খবর আলজাজিরার।
এবার ইরানের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলো লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দিয়েছেন গোষ্ঠীটির সেক্রেটারি জেনারেল নাইম কাসেম। তিনি বলেছেন, হিজবুল্লাহ নিরপেক্ষ নয় এবং এটি ইরানের পাশে আছে। টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে তিনি ইরান, এর নেতৃত্ব ও জনগণের পাশে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইরান-ইসরাইল ইস্যুতে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করলো রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাকারোভা সাংবাদিকদের বলেছেন, এ পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ হবে অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি পদক্ষেপ যা অপ্রত্যাশিত নেতিবাচক পরিণতি নিয়ে আসবে।
ইরানের হামলায় বৃহস্পতিবার ৫০ জন ইসরাইলি নিহত হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে রেডিও তেহরান। বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে অপারেশন ট্রু প্রমিজের ১৪তম দফা হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে কমপক্ষে ৫০ জন ইসরাইলি নিহত হয়েছেন। এদিকে বিবিসি জানিয়েছে, সরোকা হাসপাতালে ইরানের হামলায় অন্তত ৭১ জন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সরাসরি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানার পর বিস্মিত বিশ্ব। বহু বছর ধরে পরীক্ষিত ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যেন এক রাতে প্রশ্নের মুখে পড়ল। আধুনিক প্রযুক্তিতে গড়া ইসরায়েলের বহু স্তরবিশিষ্ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এমন পরাজয় দেখবে, তা কল্পনা করেননি অনেক সামরিক বিশ্লেষকই।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ফের হত্যার হুমকি দিয়েছে ইসরাইল। তেল আবিব ঘেঁষা হোলন শহরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ এ হুমকি দেন। তিনি বলেন, খামেনিকে ‘আর বেঁচে থাকার সুযোগ দেয়া যায়না’। বৃহস্পতিবার ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পরে ইসরাইলের সোরোকা হাসপাতালে।
এবার ইরানের পাশে দাঁড়ালো উত্তর কোরিয়া। ইরানের ওপর ইসরাইলের হামলা নিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটি। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিনের বিবৃতিতে ওই নিন্দা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
ইরান-ইসরাইল সংঘাতের উত্তেজনা প্রশমনে শক্তিধর দেশগুলোকে সাহায্য করার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপের সময় ওই মন্তব্য করেছেন তিনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলেও, এগুলো মূলত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় কেন্দ্রীভূত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, এ ধরনের স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হলেও তা চেরনোবিল বা ফুকুশিমার মতো ভয়াবহ ‘পারমাণবিক দুর্ঘটনা’ ঘটানোর ঝুঁকি তৈরি করে না। এর কারণ হলো, সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে কোনো পারমাণবিক বিক্রিয়া (নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকশন) ঘটে না।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীকে ইরানে হামলা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। এতে বলা হয়েছে, ইরানের কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরাইল কাৎজ ও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামনি নেতানিয়াহু।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পরিসর বাড়িয়ে এবার দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদরদপ্তর ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে কাটজ লিখেছেন- আমাদের বিমানবাহিনী ইরানি শাসকগোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সদরদপ্তর- যা স্বৈরশাসকের প্রধান দমনযন্ত্র- সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে।
ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলের শহর বেয়ের শেভা এবং তেল আবিবে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় এখনই সংকটে ইসরাইল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থা 'অ্যারো ইন্টারসেপ্টর' দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পরিস্থিতি আঁচ করে আগেই স্থলে, আকাশে ও সমুদ্রে সহায়তা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্রুত ফুরিয়ে আসছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা 'অ্যারো ইন্টারসেপ্টর'!
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন, কিন্তু দেশটিতে হামলা চালানো হবে কি না- সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। একটি গোয়েন্দা সূত্র সিবিএসকে জানিয়েছে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ করতে রাজি হতেও পারে- এমন চিন্তায় হামলা শুরু করার সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন ট্রাস্প। তবে তিনি ইরানের ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা ফোর্দো-তে মার্কিন হামলার কথা বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর নতুন এবং বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ ভূমধ্যসাগরে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত বলে জানা গেছে। ইরান-ইসরাইল সংঘাতের মধ্যে এটাই ওই অঞ্চলে সবশেষ বড় সামরিক পদক্ষেপ। সিএনএন-এর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যাকারি কোহেনের বরাত দিয়ে আরেক মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট বুধবার (১৮ জুন) এ খবর জানিয়েছে।