| ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিশ্বব্যাপী ঝুঁকি তৈরি করছে

রিপোর্টারের নামঃ ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট টাইম : 28-07-2025 ইং
  • 96763 বার পঠিত
চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিশ্বব্যাপী ঝুঁকি তৈরি করছে
ছবির ক্যাপশন: চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিশ্বব্যাপী ঝুঁকি তৈরি করছে

বিশ্বজুড়ে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের থেকে একটি বড় মহামারী ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমনটা সতর্ক করে দিলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। এটি প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। দুই দশক আগে একটি বড় প্রাদুর্ভাবের মতো এর পুনরাবৃত্তি রোধ করতে চায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। চিকুনগুনিয়া একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। যার থেকে জ্বর এবং তীব্র জয়েন্টে ব্যথা হয়। রোগীকে প্রায়শই দুর্বল করে দেয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি মারাত্মকও হতে পারে। 

হু -এর ডায়ানা রোজাস আলভারেজ বলছেন, চিকুনগুনিয়া এমন কোনও রোগ নয় যা ব্যাপকভাবে পরিচিত, তবে এটি বিশ্বব্যাপী ১১৯টি দেশে শনাক্ত এবং রোগীদের সংক্রামিত করেছে, যার ফলে ৫.৬ বিলিয়ন মানুষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। 

তিনি বলেন, কীভাবে ২০০৪ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত, ভারত মহাসাগর সংশ্লিষ্ট অঞ্চল জুড়ে চিকুনগুনিয়া মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। ছোট ছোট দ্বীপ অঞ্চলে আঘাত হানার আগে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় পাঁচ লাখ মানুষকে প্রভাবিত করে। জেনেভায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, 'আজ, হু একই ধরণের ভাইরাসের আবির্ভাব দেখতে পাচ্ছে।  ২০২৫ সালের শুরু থেকে, রিইউনিয়ন, মায়োট এবং মরিশাস সব জায়গায়ই বড় ধরনের চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া গেছে। জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ ইতিমধ্যেই সংক্রামিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


‘সতর্কতার আহ্বান’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুসারে, চিকুনগুনিয়ার লক্ষণগুলি ডেঙ্গু জ্বর এবং জিকা ভাইরাস রোগের মতোই, যা রোগ নির্ণয় করা কঠিন করে তোলে। রোজাস আলভারেজ বলেন যে ২০ বছর আগের মতো, ভাইরাসটি এখন এই অঞ্চলের অন্যান্য স্থানে, যেমন মাদাগাস্কার, সোমালিয়া এবং কেনিয়াতে ছড়িয়ে পড়ছে।

দক্ষিণ এশিয়াতেও মহামারী সংক্রমণ ঘটছে। ইউরোপে, ভারত মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জেও প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া গেছে। ফ্রান্সে স্থানীয় সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে এবং ইতালিতে সন্দেহভাজন আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে। রোজাস আলভারেজ বলেছেন, যেহেতু ২০০৪ সাল থেকে এই সংক্রমণের ধরণগুলো প্রাদুর্ভাবের সময় দেখা গিয়েছিল, তাই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি রোধে হু জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। 

তিনি উল্লেখ করেন, 'মৃত্যুর হার এক শতাংশেরও কম, কিন্তু যখন আপনি যখন লাখ লাখ শনাক্ত গণনা শুরু করেন, তখন সেই এক শতাংশ হাজার হাজার মৃত্যুর কারণ হতে পারে। আমরা দ্রুত  সতর্কতা জারি করছি যাতে দেশগুলো খুব বড় প্রাদুর্ভাব এড়াতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে পারে।


মশার উপদ্রব 

রোজাস আলভারেজ ব্যাখ্যা করেছেন, যেসব অঞ্চলে জনসংখ্যার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বা একেবারেই নেই, সেখানে ভাইরাসটি দ্রুত মহামারী সৃষ্টি করতে পারে, যা জনসংখ্যার তিন-চতুর্থাংশকে প্রভাবিত করতে পারে। চিকুনগুনিয়া ভাইরাস সংক্রামিত স্ত্রী মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হয়, এগুলো সাধারণত এডিস এজিপ্টি এবং এডিস অ্যালবোপিকটাস মশা। মানব-চালিত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে সাথে টাইগার মশা আরও উত্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। এরা মূলত দিনের আলোতে কামড়ায়, প্রায়শই ভোরে এবং বিকেলের শেষের দিকে এদের কামড়ের হার সর্বোচ্চ থাকে। মশার বংশবৃদ্ধি আটকাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মানুষকে মশা নিরোধক ব্যবহার এবং পাত্রে পানি জমে না রাখার মতো ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে।


সূত্র : সায়েন্স এলার্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Gen Z Bangladesh Online - জেন জি বাংলাদেশ অনলাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ