| ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


৫ই আগষ্টের মধ্যে জুলাই ঘোষনাপত্র আদায় করা হবে: নাহিদ

রিপোর্টারের নামঃ ৫ই আগষ্টের মধ্যে জুলাই ঘোষনাপত্র আদায় করা হবে: নাহিদ
  • আপডেট টাইম : 24-07-2025 ইং
  • 100059 বার পঠিত
৫ই আগষ্টের মধ্যে জুলাই ঘোষনাপত্র আদায় করা হবে: নাহিদ
ছবির ক্যাপশন: ৫ই আগষ্টের মধ্যে জুলাই ঘোষনাপত্র আদায় করা হবে: নাহিদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এসসিপি) পদযাত্রা ও সমাবেশ হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের জাতীয় বীর আবদুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্তমঞ্চে সমাবেশে দলের আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন- জাতীয় নাগরিক পার্টি সংস্কার, বিচার ও নতুন সংবিধানের দাবীতে এগিয়ে যাবে। যে সকল রাজনৈতিক দল নিজেদের দলীয় অবস্থান থেকে সরে এসে সংস্কারের  ঐক্যমতের পক্ষে কাজ করছেন সেসকল রাজনৈতিক দলকে ধন্যবাদ জানাই। ইনশাল্লাহ আমরা ৫ই আগষ্টের মধ্যেই জুলাই সনদ এবং ঘোষনাপত্র আদায় করতে পারব।

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভূমিকার উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, সকল আন্দোলনে এখানকার মানুষ রক্ত দিয়েছে,সাহসিকতার সাথে লড়াই করেছে। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনেই নয়,গনঅভ্যুত্থানের আগেও ২০২১ সালে মোদি বিরোধী আন্দোলনে বহু মানুষ লড়াই করেছিলো। দিল্লীর আধিপত্যের বিরুদ্ধে সেসময় অনেক মানুষ শহীদ হয়েছিলেন। আমরা বিশ্বাস করি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ মাথা নত করেনা। জীবন দিয়েছে,কিন্তু আপস করেনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে কেন বারবার আন্দােলন হয় সেকারনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আওয়ামীলীগের চক্ষুশুলে পরিনত হয়েছিলো। ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলো বলেই ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে উন্নয়ন বঞ্চিত রাখা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাস ঢাকা, ময়মনসিংহসহ দেশের বৃহত্তর জনগোষ্টির চাহিদা পূরন করলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ গ্যাস থেকে বঞ্চিত রয়েছে। আমরা সে উন্নয়নের রাস্ট্র চাইনা, যেখানে নিজের জনগন, নিজের এলাকার মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয় এবং কেন্দ্র সে উন্নয়ন পায়। আমরা মনে করি উন্নয়ন মানে শুধু ঢাকার উন্নয়ন নয়,বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জেলায় উন্নয়নের সুষম বন্টন হতে হবে। সদস্য সচিব আক্তার হোসেন বলেন, অনেক জীবন ও রক্তের বিনিময়ে আমরা যে পরিবর্তন আকাঙ্খা করেছিলাম সেই পরিবর্তন যদি থামিয়ে দেয়া হয় তাহলে আমরা আমাদের ভাইদের নিয়ে আবার রাজপথে হাজির হব। প্রয়োজনে জীবন দেব। কিন্তু বাংলাদেশকে আমরা নতুন করে সাজাবোই। 

মাইলস্টোনের ঘটনাকে পুঁজি করে আওয়ামী লীগ আবার পুনর্গঠিত হচ্ছে: হাসনাত 

সভায় দলের মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, আমরা ভেবেছিলাম ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম মাইলস্টোনের ঘটনাকে পুঁজি করে আওয়ী লীগ আবার পুনর্গঠিত হচ্ছে। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান করব বাংলাদেশের স্বার্থে ফ্যাসিবাদ বিরোধী বক্তব্যে রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করতে হবে।

এর আগে দুপুর পৌনে ১২টায় জেলা শহরের রেলগেই এলাকা থেকে পদযাত্রা শুরু করেন এনসিপি নেতৃবৃন্দরা। এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ছাড়াও পদযাত্রায় অংশ নেন এনসিপির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাছির উদ্দিন পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ মাহদিসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, অতীতের শাসকরা আমাদের একটি ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা দিয়ে গেছে। আপনি রাস্তায় বের হন, বাসে চাপা পড়ে মরবেন। আপনি হাসপাতালে যান, চিকিৎসার অভাবে মারা যাবেন। বিমান দুর্ঘটনায় মারা যাবেন, লঞ্চ দুর্ঘটনায় মারা যাবেন। বাংলাদেশে একটি স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তার অবস্থা আমাদের দিয়ে যায়নি। এই রাষ্ট্রের কাছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আমরা স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা চেয়েছিলাম একটি পুনর্গঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থা। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে আমাদের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন ইংরেজিতে অনার্স, বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বাংলায় অনার্স। যারা দক্ষ এবং যোগ্য মানুষ ছিল তাদেরকে সরকারে বসিয়ে বাংলাদেশের মানুষাকে দেখিয়ে দেয়া উচিত ছিল স্বাস্থ্যব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিত। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়- আমরা দেখেছি একটা ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, একটা অযোগ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে দিয়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পরিচালনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে কি কোনো ডাক্তার ছিল না? সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ মাহদি, জেলার প্রধান  সমন্বয়কারী আজিজুর রহমান লিটন  প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Gen Z Bangladesh Online - জেন জি বাংলাদেশ অনলাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ