রাশিয়ার বুকে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ভূমিকম্প। যার ফলে সুনামির ঢেউ জাপান ও আলাস্কার উপকূলে আছড়ে পড়েছে এবং প্রশান্ত মহাসাগরের আশপাশের মানুষকে সতর্ক থাকতে অথবা উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে হাওয়াই, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, সম্ভাব্য সুনামির বিপদ একদিনেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হতে পারে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ অনুসারে পূর্বে রেকর্ড করা কিছু শক্তিশালী ভূমিকম্পের তথ্য এখানে দেয়া হল।
১. বায়োবিও, চিলি
১৯৬০ সালে চিলির মধ্যাঞ্চলে ৯.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এটি ভালদিভিয়া ভূমিকম্প বা গ্রেট চিলির ভূমিকম্প নামে পরিচিত, যা এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প। এর ফলে দেশ এবং তার বাইরে ১,৬০০ জনেরও বেশি লোক মারা যান বিশাল সুনামির ফলে। হাজার হাজার মানুষ আহত হন।
২. আলাস্কা
১৯৬৪ সালে আলাস্কার প্রিন্স উইলিয়াম সাউন্ডে ৯.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, যা প্রায় ৫ মিনিট স্থায়ী ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ডকৃত বৃহত্তম ভূমিকম্প এবং পরবর্তী সুনামিতে ১৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। বিশাল ভূমিধস এবং উঁচু ঢেউয়ের ফলে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। প্রথম ভূমিকম্পের পর কয়েক সপ্তাহ ধরে হাজার হাজার আফটারশক অনুভূত হয়।
৩. সুমাত্রা, ইন্দোনেশিয়া
২০০৪ সালে ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প এবং এর ফলে সৃষ্ট সুনামি দক্ষিণ-পূর্ব, দক্ষিণ এশিয়া এবং পূর্ব আফ্রিকাকে ধ্বংস করে দেয়। ২,৩০,০০০ মানুষ মারা যান। শুধুমাত্র ইন্দোনেশিয়ায় ১,৬৭,০০০ এরও বেশি মানুষ মারা যান এবং সমগ্র সম্প্রদায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
৪. তোহোকু, জাপান
২০১১ সালে উত্তর-পূর্ব জাপানের উপকূলে ৯.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার ফলে সুনামির সৃষ্টি হয় এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ভেঙে পড়ে। এর ফলে বিদ্যুৎ ও শীতলীকরণ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তিনটি চুল্লি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভূমিকম্প ও সুনামিতে ১৮,০০০ এরও বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
৫. কামচাটকা, রাশিয়া
১৯৫২ সালে ৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে কামচাটকায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছিল। ৯.১ মিটার (৩০ ফুট) উঁচু ঢেউসহ হাওয়াইতে সুনামি আঘাত হানার পরেও কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
৬. বায়োবিও, চিলি
২০১০ সালে চিলির মধ্যাঞ্চলে ৮.৮ মাত্রার এক বিশাল ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার ফলে রাজধানী দেড় মিনিটের জন্য কেঁপে ওঠে এবং সুনামির সৃষ্টি হয়। এই দুর্যোগে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়।
৭. এসমেরালডাস, ইকুয়েডর
১৯০৬ সালে ৮.৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প এবং এর ফলে সৃষ্ট সুনামির জেরে প্রায় ১,৫০০ জন মানুষ মারা যায়। এর প্রভাব মধ্য আমেরিকার উপকূল বরাবর মাইলের পর মাইল এবং সান ফ্রান্সিসকো ও জাপান পর্যন্ত অনুভূত হয়েছিল।
৮. আলাস্কা
১৯৬৫ সালে আলাস্কার র্যাট দ্বীপপুঞ্জে ৮.৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার ফলে ১১ মিটার (৩৫ ফুট) উচ্চতার সুনামি হয়। ভবনে ফাটল এবং একটি অ্যাসফল্ট রানওয়েসহ সামান্য কিছু ক্ষতি হয়েছিল।
৯. তিব্বত
১৯৫০ সালে ৮.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কমপক্ষে ৭৮০ জন নিহত হন। কয়েক ডজন গ্রাম ধ্বংস হয়ে যায়, যার মধ্যে অন্তত একটি গ্রাম নদীতে তলিয়ে যায়। ভারতের সুবানসিরি নদীতে বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনাও ঘটে। সেইসঙ্গে ৭ মিটার (২৩ ফুট) উঁচু ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়।
১০. সুমাত্রা, ইন্দোনেশিয়া
২০১২ সালে ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রার পশ্চিম উপকূলে ৮.৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। যদিও এই ভূমিকম্পে খুব কম ক্ষতি হয়েছিল, তবুও এটি ২০০৪ সালের বিধ্বংসী সুনামির উৎস ছিল এমন একটি ফল্টের ওপর চাপ বাড়িয়েছিল।
সূত্র: এপি নিউজ
| ফজর | ০৪:৫৪-০৬:০৮ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১২:০৯-০৪:২৫ মিনিট দুপুর |
| আছর | ০৪:২৬-০৬:০৬ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ০৬:১০-০৭:২১ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ০৭:২২-০৮:৪৯ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |