| ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


ভারতের শিল্পপতি অনিল আম্বানির বাড়িতে দফায় দফায় তল্লাশি

রিপোর্টারের নামঃ ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট টাইম : 24-07-2025 ইং
  • 99503 বার পঠিত
ভারতের শিল্পপতি অনিল আম্বানির বাড়িতে দফায় দফায় তল্লাশি
ছবির ক্যাপশন: ভারতের শিল্পপতি অনিল আম্বানির বাড়িতে দফায় দফায় তল্লাশি

ভারতের শিল্পপতি অনিল আম্বানির সংস্থার একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক এফআইআর দায়ের হওয়ার পর এবার শুরু হয় ইডির অভিযান। দিল্লি, মুম্বাইসহ দেশের মোট ৩৫টি জায়গায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে তল্লাশি। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

ইডি’র তদন্ত মূলত রিলায়েন্স গ্রুপ অব কোম্পানিজ-এর বিরুদ্ধে আনা আর্থিক প্রতারণার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে।

মুম্বই ও দিল্লি থেকে আসা ইডি’র যৌথ টিম তার সংস্থাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও কর্পোরেট অ্যাকাউন্টের ওপর নজরদারি চালায়। মুম্বই ও দিল্লির ৫০টি অফিসের ৩৫টিরও বেশি ভবনে তল্লাশি চলছে।

ইডি সূত্রের খবর, অনিল আম্বানির সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণা ও অর্থ তছরুপের অভিযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যেই ৫০টির বেশি সংস্থা ও ২৫ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

অর্থলগ্নি নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ব স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) সঙ্গে অনিল আম্বানির বিভিন্ন সংস্থার বিরোধ চলছে। গতকাল বুধবার এসবিআই অনিল আম্বানি ও তার সংস্থাগুলোকে সরাসরি ‘প্রতারক’ বলে অভিহিত করে।

এরআগে এসবিআই ২০২০ সালের নভেম্বরেও অনিল আম্বানি ও তাঁর সংস্থা রিলায়েন্স কমিউনিকেশন্সকে ‘ফ্রড অ্যাকাউন্ট’ ঘোষণা করেছিল। ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি তাঁদের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের কাছে অভিযোগও করেছিল। কিন্তু পরের দিন দিল্লি হাইকোর্ট সেই অভিযোগে স্থগিতাদেশ দেন।

অনিল আম্বানি ও তাঁর সংস্থাগুলো ‘চমৎকারভাবে সাজানো এক সুপরিকল্পিত প্রতারণা চক্র’ অভিহিত করে ইডি সূত্রে বলা হচ্ছে, এই চক্র ব্যাংক, বিভিন্ন লগ্নিকারী সংস্থা ও সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেছে। ইডির অভিযোগ, বিপুল ঋণ পেতে এসব সংস্থা ব্যাংকের শীর্ষ কর্তাদের ঘুষ দিয়েছিল।

ইডির দাবি, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বেসরকারি ইয়েস ব্যাংক অনিলের সংস্থা ‘রাগা’ গোষ্ঠীর বিভিন্ন কোম্পানিকে তিন হাজার কোটি রুপি ঋণ দিয়েছিল। তার বিনিময়ে ইয়েস ব্যাংকের তৎকালীন কর্তারা নিজেরা ব্যক্তিগতভাবে উপকৃত হয়েছিলেন। ইডির দাবি, ওটা ছিল ‘দেওয়া-নেওয়া চুক্তি’ বা ‘কুইড প্রো কো’।

ইডির তদন্তে জানা গেছে, এমন বহু সংস্থাকে ঋণ দেওয়া হয়েছে, যাদের বিষয়ে আদৌ খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। আর্থিক হাল যাচাই করা হয়নি। দুর্বল সংস্থা ঋণ পেয়েছে। একাধিক সংস্থার পরিচালক ও ঠিকানা এক ছিল। ঋণ দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় নথি যাচাই না করেই। অনেক ক্ষেত্রে নথিই ছিল না। শেল কোম্পানিতে ঋণের টাকা পাঠানো হয়েছে। পুরোনো ঋণ মেটাতে নতুন ঋণ নেওয়া হয়েছে।

ইডিকে তদন্তে সহায়তা করছে ন্যাশনাল হাউজিং ব্যাংক, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া বা ‘সেবি’, ন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অথরিটি বা ‘এনএফআরএ’ ও ব্যাংক অব বরোদা।

সেবির প্রতিবেদনে রিলায়েন্স হোম ফিন্যান্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ সালে ওই সংস্থার ঋণ ছিল ৩ হাজার ৭৪২ কোটি রুপি, যা ২০১৮-১৯ সালে বেড়ে হয় ৮ হাজার ৬৭০ কোটি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Gen Z Bangladesh Online - জেন জি বাংলাদেশ অনলাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ